রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

চাকরি ফসকে যেতে পারে যেসব ভুলে

নিয়োগকর্তার কাছে চমৎকার একটি আবেদনপত্র বা কভার লেটারসহ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর পর যেকোনো চাকরিপ্রার্থীর উচিত হবে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত হওয়া। সাক্ষাৎকারপর্ব ভালোয় ভালোয় শেষ করার জন্য কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।

মানবসম্পদ ও নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা সাক্ষাৎকারের পাঁচটি সাধারণ ভুল চিহ্নিত করেছেন। এ ভুলগুলো না করলে যে আপনি চাকরি পেয়েই যাবেন এমন নয়, তবে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারের জন্য আপনার ডাক পাওয়ার সম্ভবনা যে বাড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
· পোশাকে অপেশাদারিত্বঃ সাক্ষাৎকার দিতে গেলে আপনার বাইরের দিকটাই সবার আগে চোখে পড়বে নিয়োগকর্তাদের। অবশ্যই সাক্ষাৎকারের পোশাক নির্বাচনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিন। তাই বলে ফ্যাশন মডেলদের মতো পোশাক পরার দরকার নেই। পরতে হবে পরিষ্কার ও ভদ্র পোশাক।
এ ক্ষেত্রে সাধারণ অফিস পোশাক খুবই উপযুক্ত। আর দর্জির কাছে মাপ দিয়ে বানানো সুট সবচেয়ে মানানসই। গেঞ্জি বা টি-শার্ট, হাফহাতা শার্ট এবং জিন্সের প্যান্ট তো পরাই যাবে না। অবশ্যই চোখ ধাঁধানো অলংকার পরে বা অতিরিক্ত গন্ধ ছড়ানো সুগন্ধী মেখে যাবেন না।
· প্রস্তুতিহীন অবস্থায় আসাঃ সাক্ষাৎকার হলো আপনাকে ও আপনার দক্ষতাকে নিয়োগকর্তার কাছে তুলে ধরার জায়গা। তাই প্রস্তুতি তো নিয়েই আসতে হবে। আপনি যদি না জানেন প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ কী হবে বা কোন পদের জন্য আপনার সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, তবে তো মনে হবে আপনি চাকরি করতে আগ্রহীই নন।
তাই কোম্পানির ইতিহাস ও কার্যক্রম জানাটা আপনাকে সাহায্যই করবে। এতে মনে হবে আপনি আসলেই চাকরিটার প্রতি আগ্রহী। সাক্ষাৎকার দিতে আসার আগে আপনার পেশাজীবনের লক্ষ্য এবং যে পদের জন্য আপনি সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন তা ওই লক্ষ্যকে কীভাবে সহায়তা করবে তা ভেবে আসতে হবে।

রস্তুতির মধ্যে পড়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ সঙ্গে নিয়ে আসাও। অবশ্যই জীবনবৃত্তান্তের অতিরিক্ত একটি কপি আনা উচিত। প্রয়োজনীয় নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সঙ্গে লিখে আনতে হবে। কারণ আপনাকে নিয়োগকর্তার সামনে বসেও চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করতে হতে পারে।
· তাড়াতাড়ি বেতন-সুবিধার কথা জানতে চাওয়াঃ কত বেতন পাবেন তা নিয়ে তো কৌতূহল থাকতেই পারে। কিন্তু প্রথম সাক্ষাৎকারেই এটা জানতে চাওয়াটা ঠিক হবে না। আপনি যদি সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বেতন-ভাতার কথা তোলেন, তবে নিয়োগকর্তারা ভাববেন আপনি ব্যক্তিগত উন্নতি নিয়েই উদ্বিগ্ন, কোম্পানি নিয়ে নয়। এতে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারের ডাক আর পড়বে না। এ ছাড়া আপনার আগে থেকেই জানা উচিত আবেদন করা পদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত কত টাকা বেতন দেবে।
· চাকরির জন্য বেপরোয়া ভাব করাঃ আপনি হয়তো চাকরি খুঁজতে খুঁজতে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। হয়তো আপনাকে যে চাকরিই দেওয়া হোক না কেন তা করবেন বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু চাকরি করার জন্য এমন মরিয়া ভাব সাক্ষাৎকার বোর্ডে দেখাতে যাবেন না। যে প্রার্থী সাক্ষাৎকার বোর্ডে সবকিছুই একবাক্যে মেনে নেয় তাকে নিয়োগকর্তারা পছন্দ করবেন না।
আবার কখনোই বলবেন না আপনি এ চাকরির জন্য বেশি যোগ্য। নিয়োগকর্তারা তো আপনার জীবনবৃত্তান্ত ঘেঁটে যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই আপনাকে ডেকেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো পদে উৎসাহী একজন কর্মীকেই ডাকে, তারা চায় না মরিয়া কোনো কর্মীকে, যে সবকিছুই করতে রাজি।
· অতিরিক্ত বিচলিত হয়ে পড়াঃ সাক্ষাৎকারের সময় পাল্টা প্রশ্ন করুন, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান, পদ বা দায়িত্ব সম্পর্কে নোট নিন। এটা আপনাকে বিচলিত হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। নার্ভাস হয়ে পা নাড়ানো, চেয়ার দোলানো ইত্যাদি করা যাবে না। সাক্ষাৎকার দিতে এসে প্রার্থী একটু নার্ভাস হবেই। এটাই স্বাভাবিক, নিয়োগকর্তারাও তা জানেন। কিন্তু অতিরিক্ত বিচলিত হয়ে পড়াকে তাঁরা খারাপ ভাবেই নেবেন।
সাক্ষাৎকারের সময় প্রশ্নকর্তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে আপনাকে মেলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখুন। আর এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলে চাকরি পাওয়ার প্রথম ধাপটা নিশ্চিন্তেই পার হয়ে যান।

Previous Post
Next Post
Related Posts