মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

প্রহর শেষের আলোয় রাঙ্গা সেদিন চৈত্রমাস তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ


কত সত্যি কথাগুলি, তাই না ? বিশ্বজোড়া পাতা প্রেমের ফাঁদে ধরা পড়েনি এরকম মানুষ বিরল | ঘন্টার পর ঘন্টা কারো সাথে অনর্থক সময় কাটানো, কথা বলা, এমনকি কথা না বলেও ভেসে যাওয়া
আবেগের বন্যায় - সেই অস্থিরতা, সেই অন্ধ আবেগ, সেই ঘুম-খিদে নষ্ট করা অনুভূতি - কেন হয় ? কেন সেই প্রিয় মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে নেশার মত লাগে ?
আবার কেনই বা সেই প্রিয় মানুষকেই আর ভালো লাগেনা ? যে মানুষটার সব কিছু ভালো লাগত; কেন তার আচরণ পাল্টে যায় ? তার যে আচরণ আগে হিল্লোল তুলত বুকে; সেটাই কেন পরে বিরক্তির উদ্রেক করে ?
প্রেম কি ?
যারা প্রেমের অনুভূতির সাথে পরিচিত তাদের যদি এক কথায় বলতে বলা হয় যে প্রেম কি, তাহলে তাদের সবাই মনের মধ্যে চলা হাজার অনুভূতির মধ্যে হাতড়ে বেড়াবে সঠিক শব্দগুলির জন্য | সেই অগোছালো মুহুর্তে যদি তাদের সামনে রাখা হয় এই বাক্যাংশটি " এক নেশা " তবে সাথে সাথে তারা চোখ বন্ধ করে একমত হবে | এবং তারা তাদের বক্তব্যের সমর্থনে পাবে আধুনিক বিজ্ঞানকে | বিজ্ঞান বলে : মদ, হেরোইন, চরস ইত্যাদি ধরনের ড্রাগে আসক্ত মানুষ যে ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কবলে পড়ে; প্রেমে পড়া মানুষও সেই একই ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে |
বিজ্ঞানের ভাষায়, প্রেম হলো আমাদের মনের একধরনের রাসায়নিক অবস্থা | যার জন্য একাধারে দায়ী আমাদের Gene এবং আমাদের ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আমরা কিভাবে লালিত পালিত হয়েছি | এবং এই প্রেম অত্যন্ত জরুরি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য |
প্রকৃত প্রেম আমাদের উল্লসিত করে, অনুপ্রানিত করে | প্রেমের কারণে মানুষ এমন অনেক কিছু করে ফেলে বা করতে পারে (অবশ্যই গঠনমূলক কোনো কিছু), যা সাধারনভাবে মানুষ করেনা বা করতে পারেনা | এই বিরল অনুভূতিই মানুষকে আলাদা করেছে সৃষ্টিজগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে | তবে আলাদা হোক বা যাই হোক না কেন, শরীর জুড়ে এই যে "রাসায়নিক ঝড়" ( বা মুন্নাভাই M.B.B.S এর ভাষায় "কেমিক্যাল লোচা") এর আসল উদ্দেশ্য সেই একই - প্রজাতির সৃষ্টি নিশ্চিত করা | প্রেমের ফলে শরীর জুড়ে রাসায়নিকের যে দাপাদাপি চলে তারাই আমাদের অনুপ্রানিত করে পরিবার তৈরী করতে; চাহিদা তৈরী করে বাচ্চা নেবার | এরপর যেই বাচ্চা জন্ম নেয়; এইসব chemical তখন আমাদের উদ্বুদ্ধ করে বাচ্চাদের নিয়ে একসাথে থাকার; উদ্দেশ্য সেই একই - প্রজাতির সৃষ্টি যেন চলতে থাকে |
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক রীতিনীতি আলাদা হবার কারণে প্রেম, ভালবাসার প্রকাশ আলাদা হয় | আলাদা হয় পরিবারের গঠন, বন্ধনের প্রকৃতি | কিন্তু সবার শরীরে এর জোয়ার-ভাঁটার টান অনিবার্য |
প্রেমের factor
আমাদের মনের বেশিরভাগটাই এখনো অজানা | হিমশৈলের মতই এর সামান্য অংশটুকুই আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য | আজব ব্যাপার তাইনা ! আমাদেরই জিনিস আর আমরাই বুঝতে পারিনা, জানতেও পারিনা | এইজন্যই বাউলরা মানুষের দেহতত্বের সাধনায় পাগল হয়ে যায় |
বিজ্ঞানীরা বলেন, সব মানুষের মনের কোনো এক গোপন কোনায় - যাকে আমরা বলি subconcious mind - তার আদর্শ মনের মানুষের একটা template বা অবয়ব থাকে | জিনগত প্রভাব, পরিবেশের প্রভাব এইসব অনেক জিনিসের প্রভাবে ধীরে ধীরে মনের ভেতর সেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ছাঁচ তৈরী হয় | এই template বা ছাঁচের কারণেই ঘরভর্তি মানুষের ভিড়েও কোনো একজন বিশেষ মানুষের চোখে চোখ আটকে যায় আমাদের | কিভাবে তৈরী হয় এই template?
অনেকরকমের অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে অনেক কৌতুহলুদ্দীপক তথ্য | জানা গেছে, অনেক factor মিলে তৈরী করে ওই মনের মানুষের ছাঁচ | দেখা যাক, কি সেই factor গুলো :
Previous Post
Next Post
Related Posts