বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

বিস্ময়ভরা চোখে আকাশের দিকে চেয়ে থাকতেন ! সীমাহীন যাহার কল্পনা তিনি -


কাঠের টাইপ আজও বিজ্ঞান জগতে এক শ্রেষ্ঠ আবদান

গুটেনবার্গ ছিলেন একজন খুব ভাল শিল্পী কিন্তু গুটেনবার্গর একটা নেশা ছিল তাস খেলায় আজকের মতো তখনতো ভাল তাস পাওয়া যেত না,
তাই
শিল্পীরাই মোটা কাগজ কেটে তারউপর তাসের ছবি আঁকতেন
তখনি
তাস খেলতে খেলতে গুটেনবার্গের মাথায় বুদ্ধি এল , খুব সুন্দর করে এক বান্ডিল তাস আঁকবেন
ব্যস
এই কথা মনে হতে তিনি খেলা বন্ধ করে মেতে গেলেন তাস আঁকতে
দুই
-তিনখানা তাস আঁকর পরই তিনি, ভাবলেন দুর এইভাবে এত কষ্টকরে আঁকা যায় ?
কিভাবে
যন্ত্রের দ্বারা ছবি আঁকা যায় সেই ভাবনাই ভাবতে লাগলেন
গুটেনবার্গ
রং তুলি ফেলে তিনি গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসলেন অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তিনি কাঠের ব্লক তৈরি করলেন
সেই
কাঠের ব্লকের উপর কালি মাখিয়ে তা কাগজের উপর ছাপ দিলেন
এতে
সত্যিই সন্দর তাসের ছবি পাওয়া গেল
আনন্দে
আত্মহারা হয়ে উঠলেন গুটেনবার্গ
তিনি
অনেকগুলো কাঠের ব্লক তৈরি করে সব বন্ধুদের আনন্দে বিলাতে লাগলেন
কাঠের
ব্লকে তাস ছেপে তিনি খুব খুশি হলেন শিল্পীমনের চিন্তার শেষ নেই
এবার
ভাবলেন অন্যকিছু

মহাপুরুষের ছবি এঁকে ব্লক করলেন

গুটেনবার্গ মনে মনে ঠিক করলেন কাঠের উপর মহাপুরুষের ছবি এঁকে ব্লক করলে কেমন হয়?
যেই
ভাবা সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাজে লেগে গেলেন
এই
মহাপুরুষের ছবির নিচে কাঠের সূক্ষ এবং ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে কেটে অক্ষরের ব্লক তৈরি করে মহাপুরুষের সংক্ষিপ্ত জীবন কথা ছেপে বেবার ব্যবস্থা করলেন

বিস্ময়ভরা চোখে আকাশের দিকে চেয়ে থাকতেন ! সীমাহীন যাহার কল্পনা তিনি -

বিস্ময়ভরা চোখে চেয়ে থাকত আকাশের দিকে আকাশের চন্দ্র সুর্য গ্রহ তারা সব কিছুই তার কাছে ছিল অপার বিস্ময়ের অনন্ত আকাশের মত ছিল তার সীমাহীন কল্পনা তিনি নিকোলাস কোপার্নিকাস স্কুলের পড়া শেষ করে ১৮ বছর বয়সে কোপার্নিকাস ক্র্যাকাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন কোপার্নিকাস কলাবিভগের ছাত্র কিন্তু তিনি বেশির ভাগ সময়েই গণিত জ্যেতির্বিজ্ঞানের চর্চ্চা করতেন জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর আগ্রহ দেখে কাকা বলতেন, আকাশের দিকে না তাকিয়ে মাটির দিকে তাকাও কাকার ইচ্ছা অনুসারে তিনি আবার ডাক্তারিতে ভর্তি হলেন ডাক্তারি পাশ করলেন কিন্তু মানুষের দেহের জটিলতার চোয়ে বিশ্ব-ব্রক্ষ্মান্ডের জটিলতাই তাঁকে বেশি আকৃষ্ট করত তাই স্থির করলেন উচ্চশিক্ষা লাভ করবেন কাকা তাঁকে অনুমতি দিলেন উচ্চশিক্ষায় ইটালিতে গিয়ে চিত্রকলায়ও দক্ষ হয়ে উঠলেন তিনি ইটালির বেলেগনা বিশ্ববাদ্যালয়ে ভর্তি হলেন গনিত জ্যোতির্বিজ্ঞান পড়াশুনা করলেন যথাসময়ে তিনি বেলেগনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা শেষ করে রোম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন

খালি চোখে প্রমান

প্রত্যক্ষ প্রমাণের জন্য খালি চোখের উপরই নির্ভর করতে হত কারন তখনো দূরবীন আবিষ্কার হয়নি দুরের আকাশ দেখা সম্ভব হত না খালি চোখে পর্যবেক্ষন করেছিলেন দুটো সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ব প্রকৃতির গঠন সম্বন্ধে একটা ধারনা গড়ে তোলেন, এবং প্রধানত তাঁর উপরে ভিত্তি করেই গণিতের সূত্রের সাহায্য ছাড়াই কিভাবে এত নির্ভুলভাবে স্থির করেছিলেন তা ভেবে বিষ্ময়ে অভিভুত হতে হয় টলেমি যখন গবেষণায় নিমগ্ন, কিছু মানুষ তাঁর উদারতা সরলতার সুযোগ নিয়ে নানাভাবে বিব্রত করতে আবম্ভ করল এরা সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে প্রচার করতে আবম্ভ করল, একটা নিতান্তই বোকা লোক খালি চোখে দেখতে পায়, 'সূর্য আমাদের চারদিকে ঘুরছে আর পৃথিবী স্থির' আর কোপারর্নিকাস মানুষকে বোকাবানাতে বলছে পৃথিবী ঘুরছে আর সূর্য স্থির

চিকিৎসা সমজ সেবা রাজনীতি অর্থনীতি সম্বন্ধেও তাঁর ছিল সুগভীর জ্ঞান

সময় থেকে শুরু হল তাঁর জিজ্ঞাসার উত্তর খোঁজার পালা ফ্রাউয়েনবার্গ ছিল একটি পাহাড়ী গ্রাম তিনি সাধারন মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে বিচলিত হয়ে পড়তেন অসুস্থ মানুষেরা তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য আসত অল্পদিনের মধ্যেই চিকিসক হিসেবে তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল
কোপার্নিকাস
ছিলেন বিচত্র প্রতিভার অধিকারী নানা বিষয়ে ছিল তাঁর সহজাত দক্ষতা গ্রামের মানুষের পানি আনবর জন্য দীর্ঘ দু মাইল দূরে নদীতে যেতে হত তিনি পাহাড়ের মাথায় বাঁধ বেধে দিয়ে গ্রামে পানি নিয়ে এলেন গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন জ্ঞান দয়ার প্রতীক
শুধু
মাত্র চিকিৎসা আর সমজ সেবা নয়, রাজনীতি অর্থনীতি সম্বন্ধেও তার ছিল সুগভীর জ্ঞান তিনি নানা ব্যাপারে সরকরকে পরামর্শ দিতেন
অর্থনীতির
উপর তিনি এটি বই লিখেছিলেন বইতে সে যগের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানান ভুল-ত্রুটির উল্লেখ করেছিলেন তাঁর বহু অভিমত সরকর গ্রহণ করেন

আধুনিক ক্যালেন্ডারের প্রবর্তক

কোপার্নিকাসের আর একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বই হল আধুনিক ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করা ক্যালেন্ডার চালু হওয়ার পর থেকে তাতে বিশেষ কোন সংশোধনের কাজে হাত দিলেন এবং সঠিকভাবে দিন মাস বছরের হিসেব নির্নয় করলেন প্রকৃতপক্ষে তিনিই প্রথম বছরের সঠিক কাল পরমাণ আবিষ্কার করেন তাঁর মনে হত যদি সূর্য প্রথিবীর চারদিকে একই বৃত্তকর পথে আবর্তিত হয় তাহলে ঋতু পরিবর্তন হয় কি করে ?

প্রকৃত সত্যর সন্ধানে জন্য নিকোলাস কোপার্নিকাসের অবস্থা !

কিন্তু কোপার্নিকাসের মনে টলেমির সিদ্ধান্তগুলো সন্দেহ জেগে উঠে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, তাকে কোন্দ্র করে সূর্য তারা চাঁদ ঘুরছে মতকে তিনি অন্তর থেকে গ্রহন করতে পারেননি ক্লাসে যখন কোপার্নিকাস ছাত্রদের টলেমির সিদ্ধান্ত পড়াতেন তখন তাঁর বার বার হমে হত তিনি কি ছাত্রদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন ! প্রকৃত সত্যকে জানবার জন্য তাঁর সমস্ত মন ব্যাকুল হয়ে উঠলেন তিনি জ্যেতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস টলেমির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যারা অভিমত পোষণ করতেন তাদের যুক্তি সিদ্ধান্তগুলো গভীর মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করতে আরম্ভ করলেন শুধু অ্যারিস্টরকাস নয, পরবর্তী যুগে ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম ব্যক্তিগত উপদেষ্টা ওরসিমি অ্যারিস্টটলের অভিমতের বিরুদ্ধে গতিশীল পৃথিবীর ধারণার কথা বললেন লিওনার্দ দ্য ভিঞ্জিও বিশ্বাস করতেন পৃথিবী স্থির নয়, গতিশীল তাছারাও কোপার্নিকাসের শিক্ষকও ডোমেনিকো এবং অ্যারিষ্টটলের মত বিশ্বাস করতেন না এপরস্পর বিরোধী অভিমতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোপার্নিকাসের মনে হল প্রকৃত সত্যকে উদ্ঘাটন করতে হবে যে বিষয়ে নিজেই সন্দিহান কেমন করে তা ছাত্রদের পাড়াচ্ছেন এমন সময় একটি ছাএ তাকে প্রশ্ন করলন, আপনি যা বলছেন তা বিশ্বাস করেন? দিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন কোপার্নিকাস মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিলেন

মানুষ একটিকে মজাদর কাহিনী বলে মনে করেছিল

জীবন সয়াহ্নে এসে কোপার্নিকাস তাঁর জীবনব্যাপী পর্যবেক্ষণ আর আবিষ্কারকে প্রকাশ করলেন তাঁর যগান্তকারী গ্রন্থে-দি রিভোল্যুশনিবাস আররিথার কোয়েলেসটিয়াম(মহাজাগতিক বস্তুগুলোর ঘূর্ণন) বইটি রচনা করেও প্রকাশ করলেন না বইটির প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল পৃথিবী আপন অক্ষের চারদিকে আবর্তনশীল কিন্তু মানুষ তা জানে না যুক্তিনিষ্ঠ প্রমাণ থাকা সত্বেও কোপার্নিকাস তাঁর রচনা প্রকাশ করলেন না তিনি শুধু মাত্র একটি সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করলেন তখনকার মানুষ একটিকে মজাদর কাহিনী বলে মনে করেছিল

তিনি শুধু দুহাতে বইটি কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেন তার কয়েক ঘন্টা পরেই তাঁর মৃত্যু হল

জিবনের শেষ পর্বে এসে কোপার্নিকাসের সাথে পরিচয় হল রেটিকাস নামে এক তরুণ জার্মান পন্ডিতের সাথে তাঁরই আন্তরিক অনুরোধে শেষ পর্যন্ত কোপার্নিকাস বই প্রকাশ করতে সম্মত হলেন তখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাই বই প্রকাশের দায়িত্ব দিলেন রেটিকাসের উপর যাতে যাজক সম্প্রদায়ের অনুমোদন পাওয়া যায় তাই কোপার্নিকাস বইটি ৎসর্গ করলেন তৃতীয় পোপ পলকে
নুরেমবার্গের
একজন মাদ্রাকর আন্দ্র সিথান্ডারের ছাপাখানায় বই ছাপার ব্যবস্থা হয় আন্দ্রেই ছিলেন লুথারপন্থী-তাছাড়া বই প্রকাশিত হলে কোপার্নিকাসের সাথে তাকেও যে বিপদগ্রস্ত হতে হবে ভয়ে ভীত হয়ে পড়লেন তাই ব্ইয়ের প্রথমে লিখলেন,- বইয়ের বিষয়বস্তু পুরোপুরি সত্য নয় অনুমানের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে কথাগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি সত্যমিথ্যার একটা সংশয়াচ্ছান্ন কারণার সৃষ্টি করলেন যাতে প্রয়োজন বইটির মিথ্যা বলে চালানো যেতে পারে শুধু তাই নয়, সিথান্ডার ইচ্ছামত বই থেকে নাম তুলে নিলেন, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল আরিস্টার্কাসের নাম যিনি প্রথম গভীর বিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন সূর্য স্থির পৃথিবী গতিশীল বই প্রকাশিত হওয়ার পর বহুদিন পর্যান্ত পন্ডিতেরা কোপার্নিকাসের সমালোচনা করেছে, তিনি পূর্বসূরীদের ঋণ স্বিকার করেননি
পরে
যখন মূল পান্ডুলিপি পাওয়া যায় তখন জানা যায় প্রকৃত তথ্য
১৫৪৩
সালে বইটি প্রকাশিত হল তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় শোনা যায় যখন বইটি ছাপা অবস্থায় তাঁর কাছে এসে পোঁছল তখন তাঁর পড়েদেখার মত অবস্থা ছিলনা তিনি শুধু দুহাতে বইটি কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেন, তার কয়েক ঘন্টা পরেই তাঁর মৃত্যু হল কোপার্নিকাস বইয়ের মধ্যে দিয়ে যে সত্যের প্রতিষ্ঠা করলেন তার উপর ভিত্তি করে গ্যালিলিও, কেপলার, নিউটন, আইনস্টান জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্তকে উন্মোচন করলেন
Previous Post
Next Post
Related Posts