বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১১

যে সকল হাদীস না জানলেই নয় জানুন শিখুন


*টেন কমান্ডমেন্টস
একঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ঈশ্বর নেই । তোমরা আল্লাহ ছাড়া অপর কোন দেবতার ইবাদত করবে না ।
দুইঃ আল্লাহকে শুধু মাত্র উপাস্য হিসাবে মান্য করলেই হবে না । তাঁর প্রতিটি নির্দেশ আদেশ মেনে চলতে হবে ।
তিনঃ সপ্তাহের ছয় দিন কাজ করবে । সপ্তম দিন কোন কাজ করবে না । এই দিন স্যাবাথ বা পবিত্র বিশ্রামের দিন ।
চারঃ পিতামাতার ভক্তি করবে, শ্রদ্ধা করবে, তাঁদের প্রতি পালনীয় কর্তব্য অবশ্যই পালন করবে ।
পাঁচঃ কোন মানুষ কে হত্যা করবে না ।
ছয়ঃ কোন নারী বা পুরুষ কখনোই ব্যভিচার করবে না ।
সাতঃ অপবের দ্রব্য অপহরণ করবে না ।
আটঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না ।
নয়ঃ অন্য জিনিসের প্রতি কোন লোভ করবে না, বা যাতে অন্যর অধিকার আছে তা গ্রহণ করবে না ।
দশঃ উপাসনাস্থলে বেদী নির্মাণ করে পশু বলি দিতে হবে ।
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাঃ) একদা একটি নকশা খচিত চাদরে নামায পড়লেন। তার নজর একবার নকশার দিকে পড়ল। তিনি নামায শেষ করে বললেন, চাদরটি আবু জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং নকশা বিহীন চাদরটি নিয়ে এস। কেননা চাদরটি এইমাত্র আমাকে নামায থেকে অমনোযোগী করেছিল। হিসাম তার পিতার মাধ্যমে আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেন, আমি নামাযের মধ্যে চাদরটির নকশার প্রতি তাকাচ্ছিলাম এবং আমার ভয় হচ্ছিল সে আমাকে ফেতনায় ফেলে না দেয়।    - বুখারী
* আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়েশার একটি চাদর ছিল। সেটি দিয়ে তিনি ঘরের দিকে পর্দা করেছিলেন। নবী (সাঃ) একদিন বললেন, তোমার চাদরটি সরিয়ে ফেল। কেননা নামাযের সময় এর নকশাগুলো সর্বদা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।     -বুখারী
* আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার দাদী মুলাইকা একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে খাওয়ার দাওয়াত করলেন। খাবারটি কেবল মাত্র তার জন্য তৈরী করা হয়েছিল। তিনি খাবার পর বললেন, দাঁড়াও আমি তোমাদের এখানে নামায পড়ব। আনাস বলেন, একটি চাটাই আনতে গেলাম। চাটাইটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের দরূন কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার ওপর দাঁড়িয়ে গেলেন আমি (একজন) ইয়াতীম তার পিছনে দাঁড়ালাম এবং বুড়ি আমাদের পিছনে দাঁড়াল। রসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে দুরাকাআত নামায পড়ালেন। তারপর তিনি চলে গেলেন।   -বুখারী
* মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (সাঃ) জায়নামাযের ওপর নামায পড়তেন।     -বুখারী
* আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সাঃ) এর সঙ্গে নামায পড়তাম এবং আমাদের কেউ কেউ অত্যন্ত গরমের দরূন কাপড়ের খুট সিজদার জয়গায় রাখতো।   -বুখারী
* আবু হুরাইরা আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, নবী (সাঃ) একবার মসজিদের দেওয়ালে কফ দেখলেন এবং তিনি নিজে কাঁকর দিয়ে রগড়ে তা পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যেন তার সামনের দিকে বা ডান দিকে কফ না ফেলে। বরং সে যেন তার বা দিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে।    -বুখারী
* আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) একবার কেবলার দিকে কফ দেখলেন। তিনি সেটা হাত দিয়ে পরিষ্কার করলেন এবং কাজটিকে অপছন্দ করার দরূন তার চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ পেল। তিনি বললেন, তার কেবলার মধ্যে আল্লাহ বিরাজমন থাকেন। কাজেই সে যেন কেবলার দিকে থুথু না ফেলে। বরং যে যেন বা দিকে অথবা পায়ের নিচে থুথু ফেলে। তারপর তিনি তার চাদরের খুট নিয়ে তাতে থুথু ফেলে রগড়ালেন এবং বললেন কিংবা এরূপ করবে।   -বুখারী
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেন, যদি আঙুরের ক্ষুদ্র অস্তক বিশিষ্ট কোন হাবশী ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমীর নিযুক্ত করা হয়, তাহলেও তার প্রতি আনুগত্য পোষণ কর এবং তার নির্দেশ শ্রবন কর।   -বুখারী
* উম্মুল মুমেনিন আয়েশা (রাঃ) নবীকে (সাঃ) শেষ বিদায়কালে নিজ ঘরে পেয়ে সৌভাগ্যবান মনে করলেন। বিষয়টি তিনি এভাবে বর্ণনা করেন, আমার প্রতি আল্লাহ পাকের অগণিত নিয়ামত সমূহের মধ্যে একটি হল আল্লাহর নবী (সাঃ) আমার কাছে থাকার দিনে আমার ঘরে এবং আমার বুকের উপর মাথা রেখে ইন্তেকাল করেছেন। দ্বিতীয়ত ইন্তেকালের পূর্ব মূহুর্তে আল্লাহ আমার মুখের লালা এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুখের লালাকে একত্রিত করে দিয়েছেন। এটা এভাবে হয়েছে যে, অসুস্থ অবস্থায় আমার ভাই আব্দুর রহমান বাসায় আসলেন তখন নবী (সাঃ) আমার বুকে মাথা রেখে হেলান দিচ্ছিলেন। আব্দুর রহমানের হাতে একটি মিসওয়াকের দিকে তিনি বারবার তাকাচ্ছিলেন। আমি বললাম, আপনাকে মিসওয়াকটি দেব? তিনি হ্যাঁ বাচক ইঙ্গিত করলেন। মিসওয়াকটি শক্ত হওয়ায় তিনি ব্যবহার করতে পারছেন না বলে আমি সেটা নিজ মুখে চিবিয়ে নরম করে দিলাম। অতঃপর তিনি ভাল করে মিসওয়াক ব্যবহার করলেন। মৃত্যুর যন্ত্রণায় তিনি বারবার পানিতে হাত ভিজিয়ে মুখমন্ডল মাসেহ করতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন, ‘লাই লাহা ইল্লাল্লাহুমৃত্যুর যন্ত্রণা বাস্তব সত্য। (বুখারী)
* আল্লাহর নবী (সাঃ) এভাবে মিসওয়াক ব্যবহার করছিলেন। মুখের ধ্বনি বন্ধ হতে থাকল। তবে ঠুট তখনো কাজ করছিল। আয়েশা (রাঃ) ঠুটের কাছে কান পেতে কিছু শুনতে পেলেন। তিনি বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ নবীগন, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং নেক আমলকারীগণের সাহচার্জে থাকার তৌফিক ্দাও, যাদেরকে তুমি অফুরন্ত নিয়ামত দিয়ে ভূষিত করেছ। হে আল্লাহ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও, আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ আমাকে তোমার উচ্চস্তরের সঙ্গ প্রদান কর।শেষ বাক্যটি তিনি বার বার পড়তে পড়তে হাতের সব শক্তি ছেড়ে দিলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিওন।
সেদিনটি ছিল সোমবার, ১২ রবিউল আওয়াল, হিজরীর এগার সাল। সকালে বেলা উঠার সময়। তাঁর বয়ষ হয়েছিল ৬৩ বছর চার দিন।
* আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়
* আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী (সাঃ) এক মজলিশে বসে লোকদেরকে কিছু বলছিলেন এমন সময় জনৈক বেদুইন এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কিয়ামত কখন হবে? রসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর কথা বলতে থাকলেন। এতে কেউ কেউ বলল, তিনি লোকটির কথা শুনেছেন, কিন্তু তা তাঁর ভাল লাগেনি।কেউ কেউ বলল, ‘না; তিনি শুনেননি।অবশেষে তিনি তাঁর কথা শেষ করে বললেন কোথায়?’ রাবী বলেন আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, ‘কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়।লোকটি বলল, এই যে আমি হে রসূলুল্লাহ। তিনি বললেন, ‘আমানত যখন নষ্ট করা হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর।সে জিজ্ঞেস করল, ‘আমানত কিভাবে নষ্ট করা হবে?’ তিনি বললেন, কাজের দায়িত্ব যখন অনুপযুক্ত লোককে দেয়া হবে তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা কর।  -বুখারী
*আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের এক সফরে নবী (সাঃ) পিছনে পড়লেন। আমরা নামায পড়তে দেরী করে ফেলেছিলাম এবং আমরা অযু করছিলাম, আর (তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে) পা উপরে উপরে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। এমন সময় তিনি আমাদের কাছে এসে উচ্চঃস্বরে দুতিন বার বললেন, গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের শাস্তি রয়েছে।  -বুখারী
* ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন এমন একটা গাছ আছে যার পাতা ঝড়ে পড়ে না। সেটা হচ্ছে মুসলিমের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বলত সেটা কি? তখন সাহাবীগণ বনের গাছপালার চিন্তায় পড়লেন। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল সেটা খেজুর গাছ কিন্তু আমি তো বলতে লজ্জা বোধ করছিলাম। অবশেষে সাহাবীগণ বললেন, হে রসূলুল্লাহ (সাঃ)! আপনিই বলে দিন, সেটা কি গাছ?’ তিনি বললেন, সেটা খেজুর গাছ।’    -বুখারী
* হাসান বসরী (রঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলেমের নিকট হাদীস পাঠ করায় কোন দোষ নেই। সুফিয়ান সওরী (রঃ) বলেন, মুহাদ্দিসের নিকট কেউ হাদীস পাঠ করলে কোন দোষ হয় না। (অর্থা সে কথা বলতে পারে যে, অমুক আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।) উবাইদুল্ল্হা ইবনে মূসা বলেন, আমি আবু আসিম যিহাক ইবনে মুখল্লিদকে মালেক সুফিয়ানের বরাত দিয়ে বলতে শুনেছি, ‘আলেমের নিকট হাদীস পাঠ করা এবং স্বয়ং আলেমের হাদীস পাঠ করা উভয়ই সমান কথা।  -বুখারী
* উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) তার একখানা পত্রসহ একজন লোককে পাঠালেন। তাকে তিনি পত্রটি বাহরাইনের শাসনকর্তার নিকট দেয়ার নির্দেশ দিলেন। বাহরাইনের শাসনকর্তা পত্রখানা খসরুর (ইরানের বাদশাহ) নিকট দিলেন। সে (খসরু) তা পড়ে ছিড়ে ফেলে দিল।’ (হাদীস বর্ণনাকরী ইবনে শিহাব বলেন) আমার মনে হয় ইবনে মুসাইয়েব (এরপর আমাকে) বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) এতে তাদেরকে একেবারে টুকরো টুকরো করে দেয়ার জন্য বদদোয়া করলেন।     -বুখারী
* আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) একখানা পত্র লিখেছিলেন অথবা লেখার সংকল্প করেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়, তারা (ইরান রোম সম্রাটগণ) কোন পত্র সিল মোহর যুক্ত না হলে পড়ে না। তাই তিনি রূপার একটি আংটি তৈরী করালেন। এতেমুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (শব্দদ্বয়) অংকিত ছিল। (আনাস বলেন) আমি যেন এখনও তার হাতের আংটির উজ্জ্বলতা দেখছি। আমি (বর্ণনা কারী শুবা) কাতাদাকে (পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীজিজ্ঞেস করলাম, সে আংটির উপরমুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সাঃ) অংকিত থাকার কথা কে বলল? তিনি বললেন, কথা আনাস বলেছেন।-বুখারী
*ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (সাঃ) সফরে ঊনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করলেন এবং নামায সংক্ষেপ করলেন। তাই আমরাও ঊনিশ দিন
*হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথম যে নামায ফরয হয় তা ছিল দুরাকআত। পরে সেই দুরাকাতকেই সফরের নামায হিসেবে স্থায়ী করে দেয়া হয় এবং সফরে না থাকা অবস্থায় পুরো নামায পড়তে হবে।
*হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে দেখেছি সফরে যখনই তাঁর ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে  তখন তিনি মাগরিবের নামায এতদুর বিলম্বিত করেছেন যে, মাগরিব এবং ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ (আরো) বলেছেন,আমি নবী (সাঃ) কে দেখেছি , সফরে যখনই তার ব্যস্ততার কারণ ঘটেছে তখন তিনি মাগরিবের নামায দেরী করে আদায় করতেন এবং যখন আদায় করতেন তখন তিন রাকআতই পড়তেন। এরপর সামান্য দেরী করেই ইশার নামায আদায় করতেন এবং ইশার নামায দুরাকআত পড়ে সালাম ফিরাতেন। আর এশার পরে কোন নফল পড়তেন না। এরপর তিনি গভীর মধ্য রাতে (তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য) ওঠতেন। (বোখারী)
*হযরত আমের থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সঃ) কে তাঁর সওয়ারীর জন্তুর পিঠে যেদিক তা ফিরেছিল সেদিকে ফিরেই নামায আদায় করতে দেখেছি। (বোাখারী)
*হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত্ নবী (সঃ) এমন অবস্থায়ও নফল রামায আদায় করতেন যখন তাঁর সওয়ারীর জন্তু কেবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে থাকত। (বোখারী)
*হযরত নাফে’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবন্ েউমর তার সওয়ারীর ওপর নামায পড়তেন এং তার ওপর বিতরের নামাযও পড়তেন। আর তিনি বলেছেন যে , নবী (সঃ) এরুপ করতেন। (বোখারী)
*হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর সফরে তার সওয়ারীর জন্তু যে দিকেই ফিরুক না কেন সেদিকে ফিরেই ইশারা করে নামায আদায় করতেন। এবং আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সঃ) এরূপ করতেন। (বোখারী)
*হযরত আমের ইবনে রাবি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সঃ) কে তার সওয়ারীর ওপর থাকা অবস্থায় মাথা দয়ে ইশারা করে সেই দিকে ফিরেই নফল নামায আদায় করতে দেখেছি  যেদিকেই তা ফিরত। অথচ আল্লাহর রসূল (সঃ) ফরয নামাযে এরূপ করতেন না। (বোখারী)
*হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে , নবী (সঃ) তাঁর সওয়ারীতে থাকা অবস্থায় পূর্ব দিক ফিরে নামায আদায় করতেন। কিন্তু যখন তিনি ফরয নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি (সওয়ারী থেকে) নেমে আসতেন এবং কেবলামুখী হতেন।  (বোখারী)
*হযরত ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী (সঃ) এর সাহচর্যে থেকেছি, কিন্তু সফরে (কখনো ) তাঁেক নফল নামায পড়তে দেখিনি। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। (বোখারী)
*হযরত আনাস ইবনে সীরীন (রাঃ ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালেক যখন শাম থেকে এলেন তখন আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানালাম এবং (ইরাকের দিকস্থ) আইনুততামার নামক স্থানে তাঁর সাথে সাক্ষা করলাম   তখন আমি তাকে গাধার পিছে বসে নামায আদায় করতে দেখলাম: সে সময় তাঁর মুখ ছিল দিকেই অর্থা কেবলার বাম দিকে আমি তাকে পশ্ন করলাম, আমি আপনাকে কেবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে নামায পড়তে দেখলাম। তিনি জবাব দিলেন আমি যদি আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে এরূপ করতেনা দেখতাম তাহলে আমি এরূপ করতাম না। (বোখারী)
*হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) যখন পায়খানায় যেতেন, তখন বলতেন, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবসে ওয়াল খাবায়েস।
হযরত
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) পায়খানায় গেলে আমি তাঁর অযুর পানি এনে রাখলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কে রেখেছে? সুতরাং তাঁকে বিষয়ে অবগত করা হল। অতঃপর রাসূল (সাঃ) এই বলে দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ ! একে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান কর।
*হযরত আইয়ুব  আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে, সে যেন কেবলার দিকে মুখ না করে বা পিঠ না ফিরে বসে। বরং সে যেন পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করে।

হযরত
আনাস ইবনে মালেক (রাঃথেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন, তখন আমি একটি বালক পানির পাত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে বের হতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচা কাজ সমাধা করতেন।
হযরত
আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন পানি পান করার সময় পাত্রে নিশ্বাস না ফেলে। আর পায়খানায় থাকাকালে কেউ যেন ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ না ছোঁয় এবং সে যেন ডান হাত দিয়ে মাসাহ (শৌচ কাজ) না করে।
*হযরত আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বার্ণিত। নবী (সাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যেন পেশাব করার সময় ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচ কাজ না করে। আর সে যেন (পানির) পাত্রে নিশ্বাস না ফেলে।

*হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (সাঃ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। (তাঁর অভ্যাস ছিল) তিনি কোন দিকে তাকাতেন না, আমি তাঁর নিকটবর্তী হলে, তিনি আমাকে বললেনঃ কয়েকটি কংকর চাই ওটা দিয়ে আমি শৌচ কাজ করব (রাবি বলেন, অথবা এরূপ অন্য কথা বললেন।) কিন্তু হাড় কিম্বা গোবর আনবেন না। আমি তাঁর জন্য কাপড়ের খুটে করে  কয়েকটি কংকর এনে তাঁর পাশে রেখে চলে গেলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করে সেগুলো ব্যবহার করলেন।

*হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সাঃ) পায়খানায় গেলেন এবং আমাকে তিনটি কংকর আনার আদেশ করলেন। আমি দুটি কংকর পেলাম এবং তৃতীয়টি তালাশ করলাম। কিন্তুু তা না পেয়ে এক খন্ড (শুঙ্ক) গোবর নিয়ে আসলাম। তিনি পাথরের টুকরা দুটি নিলেন এবং গোবর কন্ডটি ফেলে দিয়ে বললেনঃ এটা নাপাক।

হযরত
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অযু করবে, সে যেন নাক ঝাড়ে এবং যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করবে, সে যেন বেজোড় ঢিলা ব্যবহার করে।
*হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ অযু করার সময় যেন নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়ে এবং ঢিলা ব্যবহার করার সময় যেন বেজোড় ঢিলা ব্যবহার করে। আর ঘুম থেকে ওঠার সময় অযুর পাত্রে (পানি) হাত প্রবেশ করার পুর্বে যেন হাত ধুয়ে নেয়ঃ কেননা সে জানে না নিদ্রার সময় তার হাত কোথায় পড়েছিল

হযরত
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা নবী  (সাঃ) কে দেখলাম আসরের নামাযের সময় হল, লোকেরা অযুর পানি তালাশ করল। কিন্তু তা পেল না। তারপর নবী (সাঃ) এর নিকট এক পাত্র পানি নিয়ে আসা হল তিনি সেই পাত্রে হাত রাখলেন এবং লোকদেরকে তা থেকে অযু করার নির্দেশ দিলেন। আমি দেখলাম, তাঁর (রসুলের) আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উপচে পড়ছে। এমনকি তারা সবাই অযু করল।  (বোখারী)
*হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ জুমআর নামায আদায় করতে আসলে তার পূর্বাহ্নে গোসল করে নেয়া উচিত।
*হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, জুমআর দিন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কের গোসল করা ওয়াজিব।
*হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, জুমআর দিন প্রত্যেক বয়স্ক লোকের গোসলমেসওয়াক এবং পাওয়া গেলে সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। আমর ইবনে সুলাইম বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তা ওয়াজিব। তবে মেসওয়াক সুগন্ধির ব্যবহার ওয়াজিব কিনা তা আল্লাহই ভাল জনেন।            
*হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, জুমআর দিন যে জানাবাত থেকে পবিত্র হওয়ার উদ্দেশ্যে গোসল করে এবং নামাযের জন্য গমন করে সে যেন একটি কুরবানী করল, যে পরবর্তীক্ষণে গমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল, যে তৃতীয়ক্ষণে গমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল, যে চতুর্থক্ষণে গমন করে সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন খুৎবা (ভাষণ) দেয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতামন্ডলী যিকর শোনার জন্য উপস্থিত হন।
*হযরত সালমান ফারেসী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে যতদুর সম্ভবপর পবিত্রতা হাসিল করে, আর নিজের তেল থেকে তেল ব্যবহার করে অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করে এরপর (নামাযের জন্য) বের হয় এবং দুজন লোককে ফাঁক না করে অতঃপর তার তকদীরে ণিখিত পরিমাণ মোতাবেক নামায পড়ে আর ইমামের খুৎবা দেয়ার সময় চুপ করে থাকে, তার সেই জুমআ হতে অন্য জুমআ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

*হযরত  আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য (কিংবা বলেছেন লোকদের জন্য) কঠিন মনে না করতাম, তা হলে প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তেই (বাধ্যতামূলকভাবে ) মেসওয়াক করার হুকুম দিতাম।
*হযরত  আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। (একবার) আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর একটি মেসওয়াক নিয়ে দাঁত ঘষতে ঘষতে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন। আমি তাকে বললাম, আব্দুর রহমান! মেসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি তা ভেঙ্গে ফেললাম এবং ( অর্থা একাংশের এক প্রান্ত) চিবিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে দিলাম তিনি তার সাহায্যে আমার বুকে হেলান দিয়ে মেসওয়াক করলেন।

*হযরত আবু আবেস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমআর উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়ে আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃকে বলতে শুনেছি, যার দুপা আল্লাহর পথে ধুলিমাখা হয়ে যায় তার জন্য আল্লাহ দোযখ নিষিদ্ধ করে দেন।

*হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, যখন নামায শুরু হয়ে যায় , তখন দৌড় দিয়ে তাতে শামিল হয়ো না। বরং হেটে গিয়ে শামিল হও। কেননা (নামাযে) ধীর স্থির হওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। সুতরা (জামাআতের সাথে নামায) যতটুকু পাও, পড়ে নাও এবং যতটুকু ছুটে যায়, পুরো করে নাও।

*হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক জুমআর দিনে নবী (সাঃ) যখন খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল এবং *আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)  (পানির অভাবে) ঘোড়া মরে যাচ্ছে, ছাগল-বকরী মরে যাচ্ছে, তাই দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তিনি তখন দুহাত প্রসারিত করলেন এবং দোয়া করলেন।    (বোখারী)
* হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রাতের বেলায় যখন তাহাজ্জুদ নামায পড়তে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য। তুমিই আসমান, যমীন দুয়ের মধ্যস্থিত সবকিছুর ব্যবস্থাপক। তোমার জন্যই সকল প্রশংসা, তুমিই আসমান, যমীন দুয়ের মধ্যস্থিত সকল কিছুর নূর বা আলো (প্রাণশক্তি) সকল প্রশংসা তোমারই। একমাত্র তুমিই আসমান, যমীন দুয়ের মধ্যস্থিত সকল জিনিসের মালিক। সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই, তুমিই বাস্তব সত্য, তোমার প্রতিশ্রতি সত্য। তোমার সাথে সাক্ষাত সত্য, তোমার বাণী সত্য, বেহেশত সত্য, দোযখ সত্য, সকল নবীই সত্য, মুহাম্মদ (সাঃ) সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছেই আত্ম সমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি, তোমার ওপরই তাওয়াককুল করেছি, তোমাকে স্মরণে রেখেই আমার সকল কাজের ব্যবস্থাপনা করেছি, তোমার কারনে বিবাদে লিপ্ত হয়েছি এবং তোমার কাছেই সব বিষয়ে মীমাংসার জন্য পেশ করেছি। অতএব, আমার অতীত ভবিষ্যতের প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করে দাও। তুমিই অগ্রবর্তী পরবর্তী তুমি ছাড়া কোন ইলাহ বা প্রভু নেই অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ বা প্রভু নেই আবদুল করীম ইবনে আবু উমাইয়া লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহে পাঠের কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
* হযরত উরওযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আয়েশা (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ) রাতের বেলায় এগার রাকাত নামায পড়তেন। এটিই ছিল তার (রাতের বেলার) নামায। নামাযে তিনি সিজদা এতখানি দীর্ঘায়িত করতেন যে, তিনি সিজদা থেকে মাথা উঠানোর আগে তোমাদের যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতে পারত। আর ফজরের নামাযের পূর্বে তিনি দুরাকাত নামায আদায় করে মুয়াযযীন ফজরের নামাযের জন্য তার কাছে আসা পর্যন্ত তিনি ডান দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকতেন।

* হযরত আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি জুনদুবকে বলতে শুনেছি, (এক সময়ে) নবী (সাঃ) পীড়িত হয়ে পড়লে (রাতের নামায তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য) তিনি এক রাত অথবা দুরাত (নামাযের জন্য) ওঠেননি।

* হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) নবী (সাঃ) এক রাতে জাগ্রত হয়ে বলতেন, সুবহানাল্লাহ ( মহান পবিত্র আল্লাহ) রাতের বেলায় কত রকমেরই না ফেতনা পরীক্ষার বস্তু এবং কত রকমেই না (কল্যাণ) ভান্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে। কে এমন আছে যে এই সব কুঠরীর নালদেরকে ( নবী (সাঃ) এর স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেবে। অনেক নারী এমন যারা দুনিয়াতে কাপড় পরে থাকবে অথচ আখেরাতে থাকবে ঊলঙ্গ।

* হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এমন একটি কাজ পরিত্যাগ করতেন যেটি ছিল তার প্রিয় কাজ। কাজটি এই আশংকায় পরিত্যাগ করতেন, যাতে লোক সে কাজ করতে শুরু করে এবং তা ফরয হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা) কখনও চাশতের নামায পড়েননি। কিন্তু আমিতা সব সময়ই পড়ে থাকি।

* হযরত যিয়াদ (ইবনে এলাকাতুস সালাবী) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরাকে বলতে শুনেছি রাতের বেলা নবী (সাঃ) পায়ের দুটি নলা ফুলে যেত। ব্যাপারে বলা হত আপনি এত কষ্ট করেন কেন আল্লাহ তো আপনার অতীতের ভবিষ্যতের সকল গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন।  জবাবে তিনি বলতেন, আমি কি (আল্লাহর) শোকর গোজার (কৃতজ্ঞ) বান্দাদের হব না।  (বোখারী)
* আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কোন কাজ সবচেয়ে ভাল? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তা তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস।জিজ্ঞেস করা হল, ‘তারপর কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ।জিজ্ঞেস করা হল, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, ক্রটিহীন হজ্জ।’ (বোখারী)
* আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃথেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজ সবচেয়ে ভাল। তিনি বললেনঃ অভূক্তকে খাওয়ান এবং চেনা অচেনা সবাইকে সালাম দেয়া।’ (বোখারী)
* ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেনঃ আমাকে দোযখ দেখান হল। আমি দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক। তারা কুফরী করে। জিজ্ঞেস করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর প্রতি কুফরী করে? তিনি বললেনঃতারা স্বামী এবং উপকারের প্রতি কুফরী বা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। যদি তুমি এক যুগ ধরে তাদের কারও উপকার কর, তারপরও সে তোমার কোন ক্রটি দেখলে বলে, ‘আমি তোমার কাছ থেকে কখনও ভাল কিছু পাইনি।’    (বোখারী)
* মারূর (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ আমি একবার আবু যারের সাথে রাবাযা নামক স্থানে দেখা করেছিলাম। তিনি এবং তাঁর খাদেম উভয়ই তখন এক একটি চাদর লুঙ্গী পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। আমি তাকে উক্ত সাম্যের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আমি একবার কোন একজন (নিজের ক্রীতদাস)-কে গালি দিয়েছিলাম।  এতে নবী (সাঃ) আমাকে বললেন, হে আবু যর! তুমি তাকে তার মায়ের নিন্দা করে লজ্জা দিলে? তুমি তো এমন লোক যার মধ্যে এখনো মূর্খতা রয়ে গেছে। তোমাদের চাকররা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। কাজেই কারো অধীনে তার ভাই থাকলে, সে নিজে যা খায় এবং যা পরে তাকেও যেন তাই খাওয়ায় পরায়। আর তাদেরকে বেশী কষ্টকর কাজ করতে দিও না। এরূপ কাজ করতে দিলে তাদেরকে সাহায্য কর। ( বোখারী)
* আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাঃ) বলেনঃ দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীনের কাজে বেশী কড়াকাড়ি করে, তাকে দ্বীন অবশ্যই পরাজিত করে দেয় কাজেই তোমরা মধ্য পথ অবলম্বন কর এবং (দ্বীনের) কাছাকাছি হও, আর হাসিমুখ থাক। আর সকালে, বিকেলে রাতের কিছু অংশ (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও। (বোখারী)
* আয়েশা থেকে বর্ণিত। নবী (সাঃ) (একবার) তাঁর কাছে এলেন তখন তার নিকট একটি মেয়ে (বসে) ছিল। তিনি [নবী (সাঃ)] জিজ্ঞেস করলেন, ‘ কে?’ আয়েশা বললেন, ‘অমুকএই বলে তিনি মেয়েটির নামাযের কথা উল্লেখ করলেন। [নবী (সাঃ)] বললেনঃ থাম যতটা তোমাদের সাধ্যে কুলায়, ততটা করা উচিত। আল্লাহর কসম, তোমরা ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ ক্লান্ত হন না। আর যে কাজ কেউ সর্বদা (নিয়মিতভাবে) করে, সেটিই আল্লাহর নিকট প্রিয়তম।
* আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে এবং তার অন্তরে একটা যব পরিমাণ সততা থাকে, তাকে দোযখ থেকে বের করা হবে। যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে এবং তার অন্তরে অণু পরিমাণ সততা থাকে, তাকেও দোযখ থেকে বের করা হবে। (বোখারী)
* আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (সাঃ) বলেছেন, যে লোক হা-হুতাশে কপালে চাপড়ায়, জামা ছিড়ে এবং বর্বর যুগের ন্যায় অনৈসলামী প্রলাপ বকে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (বোখারী)