বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের দরুন সব ইতিহাস ও কান্ড


স্যার আইজাক নিউটন এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ তত্ত্ব-

অনেক সময় ধরে বাগানে ঘুরাঘুরি করতেন তিনি হঠা করেই চোখের সামনে পড়ল একটি আপেল মুহুর্তে তাঁর মনের কোনে জেগে উঠে এক প্রশ্ন- কেন আপেলটি আকাশে না উঠে মাটিতে এসে পড়ল? জিজ্ঞাসাই চিন্তার জগতে এক গুগান্তর নিয়ে এল জন্ম নিল মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের

শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর কউতুক

[আপক্ষিক তত্ত্বকি?]
আইনস্টাইন কৌতূক করে বললেন, যখন একজন লোক কোন সুন্দরীর সঙ্গে এক ঘন্টা গল্প করে তখন তার মনে হয় সে যেন এক মিনিট বসে আছে কিন্তু যখন তাকে কোন গরম উনানের ধারে এক মিনিট দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়, তার মনে হয় সে যেন এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে হচ্ছে আপেক্ষিক তত্ত্ব

কি ছিল শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর?

আইনস্টাইনের গবেষণায় ছিলনা কোন ল্যাবরেটরি, ছিল না কোন যন্ত্রপাতি তার একমাত্র অবলম্বন ছিল খাতা-কলম আর তাঁর অসাধারণ চিন্তাশক্তি

রাষ্ট্রপতির পদ শুধুমাত্র শোভাবর্ধনের জন্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে উঠেছিল নতুন ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল আইনস্টাইকে আমন্ত্রন জানানো হলো নতুন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আইনস্ট্রাইন জানালেন, প্রকৃতির তত্ত্ব কিছু বুঝলেও মানুষ রাজনীতির কিছুই বোধে না তাছাড়া রাষ্ট্রপতির পদ শুধুমাত্র শোভাবর্ধনের জন্য শোভা হলেও তাঁর বিবেক যা মানতে পাবেনা তাকে তিনি কখনোই সমর্থন করতে পারবেন না

এক বিচিত্র ঘটনা যে মানুষটি নিজের ঘরের ঠিকানা মনে রাখতে পরেন না তিনি বিশ্বপ্রকৃতির রহস্যের ঠিকানা খুজে বের করেন

একদিন ল্যাবরেটরি থেকে এসে ঘুরতে বেড়লেন সন্ধ্যেবেলায় প্রিন্সটনের ডিরেকটরের বাড়িতে ফোন এল, দয়া করে যদি আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বরটা জানান আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বর কাউকে জানানো হবে না বলে ফোনটা নামিয়ে রাখলেন ডিরেকটার খানিক পরে আবার ফোন বেজে উঠল আমি আইনস্টাইন বলছি, বাড়ির নম্বর আর রাস্তা দুটোই ভুলে গিয়েছি যদি দয়া করে বলে দেন এক বিচিত্র ঘটনা , যে মানুষটি নিজের ঘরের ঠিকানা মনে রাখতে পরেন না, তিনি বিশ্বপ্রকৃতির রহস্যের ঠিকানা খুজে বের করেন

মহ মানুষের সাথে অন্য সাধারণ মানুষের তফ কি?

কনফুসিয়াস উত্তর দিলেন-,
একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ তাঁর পারিপার্শিক সমস্ত কিছুকেই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে করেন
কিন্তু সাধারণ মানুষ কোন কিছুই গভীরভাবে চিন্তাকরে না
শ্রেষ্ঠ মানুষেরা মনে করেন ঈশ্বরের ইচ্ছায় সব কিছু চালিত হয়
কিন্তু সাধারণ মানুষ ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দেয়
শ্রেষ্ঠ মানুষ সর্বদাই নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতিক বড় করে দেখে
এই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে জীবনকে আরো ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়াই থাকে তাঁর লক্ষ
কিন্তু সাধারণ মানুষ সর্বদাই অন্যের ত্রুটি-বিচ্যুতিক বড় করে দেখে-নিজেকে মনে করে সর্বদোষ মুক্ত

 

কে হতে পারে প্রকৃত জ্ঞানী

কনফুসিয়াস বলতেন, আত্মমর্যাদ না থকলে কোন মানুষই অন্যের কাছে মর্যাদা পেতে পারে না যে মুনুষের মধ্যে এই আত্মসন্মানবোধ আছে একমাত্র সেই হতেপারে প্রকৃত জ্ঞানী

 

কনফুসিয়াসকে প্রশ্ন করত মহত্ত্বের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কি ?

তিনি উত্তর দিতেন দয়া ত্যাগ অন্যের প্রতি যখন মানুষের দয়া ও ভালবাসা জাগ্রত হবে তখন সে হবে
প্রকৃত অর্থেই মহ মানুষ তার উপরেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ত হয়

তিনি কার্ল মার্কস

লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিশাল পাঠকক্ষের এক কোনে পড়াশুনা করেন এক ভদ্রলোক সুন্দর স্বাস্থ্য, চওড়া কপাল, সমস্ত মুখে কালো দাড়ি দু' চোখে গভীর দীপ্তি যতক্ষন চেয়ারে বসে থাকেন, টেবিলে রাখা স্তুপীকৃত বইয়ের মধ্যে আত্মমগ্ন হয়ে থাকেন দিন শেষ হয়ে আসে একে একে সকলে পাঠকক্ষ থেকে বিদায় নেয়, সকলের শেষে বেরিয়ে আসেন মানুষটি
ঘরের দরজায় এসে কাড়া নাড়তে দরজা খুলে দেন এক ভদ্রমহিলা সাথে সাথে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে ছেলেমেয়েরা এক মুহূর্তে গম্ভীর আত্মমগ্ন মানুষটি সম্পূর্ন পালটে যান হাসিখুশি আমোদ আহ্লাদে মেতে ওঠেন স্ত্রী আর শিশুদের সঙ্গে
এক এক দিন ঘরে এসে লক্ষ্য করেন শিশুদের বিষাদক্লিষ্ট মুখ মানুষটির বুঝতে অসুবিধা হয় না ঘরে খাবার মত একটুকরো রুটিও নেই আবার বেরিয়ে পড়েন মানুষটি চেনা পরিচিতিতদের কাছ থেকে সামান্য কিছু খাবার কিনে নিয়ে আসেন, যেদিন কারও কাছে ধার পান না সেদিন কোন জিনিস বন্ধক দেন

শ্রেষ্ঠ লেখকের সন্তান অনাহারে বিনা চিক্ৎসায় মৃত্যু

কার্ল মার্কসের তিন সন্তানই অনাহারে দারিদ্রতায় বিনা চিকৎসায় মৃত্যু হয়
কি নির্মম যন্ত্রণাময় জীবন
পৃথিবীর কোন সাহিত্যিক দার্শনিক লেখক জীবন বোধ হয় এখানি দুঃখময় হয়নি
দারিদ্র্য, ক্ষুধা আর অসুস্থতা ছিল মার্কসের গুহে চিরস্থায়ী সঙ্গী অথচ তিনি বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক যার কলমের শক্তিতে অর্ধেক পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেল কত সম্রাট, জার, রাজা, অত্যাচারী শাসক ধ্বংস হয়ে গেল সৃষ্টি হল নতুন পৃথিবীর ইতিহাস
অথচ সেই মুনষটির কলমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের সংসারের দু-মুঠো অন্ন যোগাড় করতে পারেননি

কার্ল মার্কসের দুটি মতবাদ

*ধর্ম সম্পর্কে "ধর্ম পৃথিবীর মানুষের দুঃখ ভোলাবার জন্য স্বর্গের সুখের প্রতিশ্রুতি দেয় আর কিছুই নয়, আফিমের মত মানুষকে ভুলিয়ে রাখবার একটা কৌশল "
*দার্শনিকদের সম্বন্ধে বললেন- "তারা শুধু নানাভাবে জগতের ব্যাখ্যা করা ছাড়া কিছুই করেনি আমরা শুধু ব্যাখ্যা করতে চাই না 'চাই জগৎকে পাল্টাতে' "

গৌতম বুদ্ধ সমগ্র মানব সমাজের জন্য যে 'দশ' নীতি প্রচলন করেছিলেন

সমগ্র "দশ" নীতি- মানব সমাজের জন্য দশটি নীতি-
একঃ তুমি কোন জীব হত্যা করবে না
দুইঃ অপরের জিনিস চুরি করবে না
তিনঃ কোন ব্যভিচার বা অনাচার করবে না
চারঃ মিখ্যা কথা বলবে না, কাউকে প্রতারণা করবে না
পাঁচঃ কোন মাদক দ্রব্য গ্রহণ করবে না
ছয়ঃ আহারে সংযমী হবে দুপুরের পর আহার করবে না
সাতঃ নৃত্যগীত দেখবে না
আটঃ সাজসজ্জা অলঙ্কার পরবে না
নয়ঃ বিলাসবহুল শয্যায় শোবে না
এই দশটি উপদেশের মধ্যে পথম পাঁচটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য আর সন্ন্যাসীর ক্ষেত্রে দশটি উপদেশই পালনীয় শঃ কোন সোনা বা রূপা গ্রহণ করবে না

গৌতম বুদ্ধের অষ্টমার্গের কথা

প্রথমঃ সত্য বোধ- অর্থা মন থেকে সকল ভান্তি দূর করতে হবে উপলব্ধি করতে হবে নিত্য অনিত্য বস্তুর মধ্যে প্রভেদ
দ্বিতীয়ঃ সংকল্প- সংসারের পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্ত হবার আকাঙ্ক্ষা যা কিছু পরম জ্ঞান তাকে উপলব্ধি করার জন্য থাকবে গভীর আত্ম সংযমের পথ ধরে এগিয়ে চলা
তৃতীয়ঃ সম্যক বা সত্য বাক্য কোন মানুষের সাথেই মিখ্যা না বলা হয় কাউকে গালিগালাজ বা খারাপ কথা বলা উচিত নয় অন্য মানুষের সাথে যখন কথা বলবে, তা যেন হয় সত্য, পবিত্র আর করুণার পূর্ন
চতুর্থঃ আচরণ - সকল মানুষের উচিত ভোগবিলাস ত্যাগ করে জীবন যাপন করা সমস্ত কাজের মধ্যেই যেন থাকে সংযম আর শৃঙ্খলা এছাড়া অন্য মানুষের প্রতি আচরণে থাকবে দয়া ভালবাসা
পঞ্চমঃ সম্যক জীবিকা- অর্থা ৎভাবে অর্থ উপার্জন করতে হবে এবং জীবন ধারনের প্রয়োজনে এমন পথ অবলম্বন করতে হবে যাতে রক্ষা পাবে পবিত্রতা সততা
ষষ্ঠঃ চেষ্টা- মন থেকে সকল রকম অশুভ অস চিন্তা দূর করতে হবে-যদি কেউ আগের পাঁচটি পথ অনুসরণ করে তবে তার কর্ম চিন্তা স্বাভাবিকভাবেই সংযত হয়ে চলবে
সপ্তমঃ সম্যক ব্যায়াম অর্থা চিন্তা - মানুষ এই সময় কেবল পবিত্র চিন্তা-ভাবনার দ্বারা মনকে পূর্ণ করে রাখবে
অষ্টমঃ এই স্তরে এসে মানুষ পরম শান্তি লাভ করবে তার মন এক গভীর প্রশান্তির স্তরে উত্তীর্ন হবে

গ্যালিলিওর মা ছিলেন উগ্র স্বভাবের মহিলা

গ্যালিলিও গ্যালিলাই সঙ্গীত অঙ্কশাস্ত্রের প্রতি ছিল গভীর ভালবাসা গ্যালিলিওর মা ছিলেন উগ্র স্বভাবের মহিলা সামান্য ব্যাপারেই অন্যের প্রতি রাগ আর বিদ্রুপে ফেটে পড়তেন পিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংঙ্কশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ তাঁকে  পরিণত করেছিল এক শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীতে

আবিস্কার এর কথা

ক্যাথিড্রালে বসে প্রর্থনা করছিলেন গ্যলিলিও গ্যালিলাই সে ক্যাথিড্রালের মাধখানে ছিল একটা বিরাট ঝাড়লন্ঠন একজন কর্মচারী তাতে প্রদীপ জ্বালাবর সময় অন্যমনস্কভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবার ঝাড়লন্ঠ দোলর সাথে সাথে তার ঘর্ষনণের আওয়াজ হতে থাকে গ্যালিলিও লক্ষ্য করলেন ক্রমশই ঝাড়লন্ঠন দুলুনি কমে আসছে কিন্তু প্রতিদটি দুলুনির সাথে যে ঘর্ষণের আওয়াজ হচ্ছে, তার গতি এক রয়ে গিয়েছে ডাক্তাররা যেভাবে নাড়ি দেখে বা অনুভাব করেন সেভাবে একদৃষ্টে দেখতে লাগলেন ঝাড়লন্ঠনের দোলন ক্রমশই তিনি উপলব্ধি করলেন ঝাড়লন্ঠনের দোলানির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছন্দ আছে এর থেকে তিনি আবিষ্কার করলেন পেন্ডুলাম গ্যালিলিওর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে নক্সা দেখে তৈরি করেছিলেন পেন্ডুলাম ঘড়ি

আবিষ্কৃত হল টেলিষ্কোপ

চারিধারে গুজব শোনা গেল 'একজন ডাচ চশমার দোকানের কর্মচারী ' কাজ করতে করতে এমন একটা জিনিস বের করেছে যা দিয়ে নাকি অনেক দূরের জিনিস দেখা যায়
গ্যালিলিও কথাটি শুনলেন শুরু হল চিন্তা-ভাবনা নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর... একটি ফাঁকা নলের মধ্যে ত্রকটি উত্তল একটি অবতল লেন্সকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসালেন, এবং দেখতে পেলেন বহু দূরের বাড়িটি মনে হচ্ছে কয়েক হাতের মধ্যে এসে গিয়েছে আবিষ্কৃত হল টেলিষ্কোপ

নতুন তারার কথা

আকাশে একটি নতুন তারা দেখা গেল বিভিন্ন লোকের মধ্যে আলোচনা শুরু হল, কেউ বললেন উল্কা, কেউ বললেন নতুন কোন তারা
গ্যালিলিও কয়েকদিন পর্যবেক্ষন করে সর্বসমক্ষে তার মত প্রকাশ করলেন তিনি বললেন, এটি কোন গ্রহ নয়, উল্কাও নয়, সৌরমন্ডলে অবস্থিত নিতান্তই একটি তারা তার বক্তৃতা শুনতে দলে দলে লোক এসে হাজির হয়েছিল

ডারউইনের গবেষনা বিষয়ে ঘটনা-

ডারউইন যে বিষয় গবেষনা চালাচ্ছেন ওয়ালেস ত্রকই বিষয় গবেষণা করেছেন একটি চিঠির মাধ্যমে জানতে পারলেন ডাউইন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন ডারউইন , কিন্তু তিনি (ডারউইন) বিশ বছর যাব গবেষণা করছেন বিবর্তনবাদের উপর ওয়ালেসের চিন্তাভাবনার সাথে তাঁর চিন্তার আশ্চার্য মিল রয়েছে
ডারউইন স্থির করলেন তিনি আর অগ্রসর হবেন না বির্বতনবাদের উপর যা কিছু গবেষণা করেছেন এখানেই তার সমাপ্তি করবেন, সমস্ত রচনা গবেষণার কগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে ফেলবেন বিবর্তনবাদের সমস্ত কৃতিত্ব একাই প্রাপ্য হোক ওয়ারেসের কারণ এই মুহুর্তে তিনি যদি তাঁর রচনা প্রকাশ করেন তাহলে ওয়ালেসের ধারণা হবে বন্ধু ডরউইন তাঁর গবেষণাপত্র চুরি করেছে এবং তার চরম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয় কিন্তু ডারউইনের বন্ধু ডঃ লায়েল সব কথা শুনে বললেন, তুমি এবং ওয়ালেস একই সভায় তোমাদের প্রবন্ধ পাঠ করবে বিচারের ভার থাকুক পন্ডিতদের উপর সমস্ত কথা জানানো হল ওয়ালেসকে কিন্তু ওয়ালেস চরম মহত্ত্বতার চরিচয় দিলেন তিনি লিখলেন,
এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবেই ডারউইনের প্রাপ্য আমি কোনভাবেই তাঁর অংশীদার হতে চাই না ওয়ালেসর এই ত্যাগ মহানুভবতা চিরদিন ডারউইন শ্রদ্ধার সাথে মনে রেখেছিলেন
এরপর ডারউইন বইলেখর কাজে হাত দিলেন একটানা পরশ্রমে তাঁর শরীর ভেঙ্গে পড়েছিল অসুস্থ অবস্থাতে লেখা শেষ করলেন আবশেষে ২৪ শে নভেম্বর ১৮৫৯ সালে ডাউইনের বই প্রকাশ পেল Origin of Species নামে
বইটিই প্রকাশের সাথে সাথে ১২৫০ কপি বিক্রি হয়ে গেল বিবর্তনবাদের নতুন তত্ত্ব বাইবেলের আদম ইভের কাহিনী, পৃথিবীর সৃষ্টির কাহিনীকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত করলেন বইতে তিনি লিখেছেন, আমাদের পৃথিবীতে প্রতিমুহুর্তে নতুন প্রানের জন্ম হচ্ছে জীবের সংখ্যা ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে

সব কিছুই তাঁর কাছে ছিল জীবনের প্রতীক কিন্তু ?

চার্লস রবার্ট ডারউইন মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অন্তহীন ভালবাসা, দুর্বল, অসহায় নিপীড়িতের প্রতি তাঁর যেমন মমতা তেমনি সমবেদনা খ্যাতি সন্মান অর্থ প্রতিপত্তির প্রতি সামান্যতম আকষণ ছিল না তাঁর শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতির সব কিছুর প্রতিই তাঁর ছিল গভীর মমত্ববোধ বড় বড় গাছ থেকে শুরু করে ছোট ঘাস বিন্দুপর্যান্ত সব কিছুই তাঁর কাছে ছিল জীবনের প্রতীক মানুষ প্রকৃতি সম্বন্ধে গভীর ভালবাসা অনুরাগ থাকলেও ঈশ্বর সম্বন্ধে তিনি ছিলেন উদাসীন ধর্মের সম্বন্ধে সামান্যতম আগ্রহ ছিল না তাঁর তিনি বলতেন ভবিষ্যতে মানুষই একদিন দেবত্ব অর্জন করবে

মানুষের ৎপত্তি বাঁদর থেকে ?

এক প্রজাতি থেকে জন্ম নিচ্ছে আরেক প্রজাতি প্রানী প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করছে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে ডারউইনের মত অনুসারে মানুষ নিম্মতর জীব থেকে ধাপে ধাপে উন্নত জীবের স্তরে এসে পৌঁছেছে এই ক্রমবিবর্তনে চিত্র এঁকেছেন তার The Descent of Man গ্রন্থে
ডারউইনের বিবর্তনবাদের প্রসঙ্গে অনেকের ধারণা মানুষের ৎপত্তি বাঁদর থেকে কিন্তু ডারউইন কখনো এই ধরনের কথা বলেননি তাঁর অভিমত ছিল মানুষ এবং বাঁদর উভয়েই উভয়েই কোন এক প্রাগৈতিহাসিক জীব থেকে বিবর্তীত হয়েছে বাদঁরেরা কোনভাবেই আমাদের পূর্বপুরুষ নয়, তার চেয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলা যেতে পারে ডারউইনের মতে মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কারণ সমস্ত জীব জগতের মধ্যে সে সকলের চেয়ে বেশি যোগ্যতম প্রকৃতপক্ষে মানুষ কোন স্বর্গচ্যুত দেবদুত নয়, সে বর্বরতার স্তর থেকে উন্নতজীব

পৃথিবীতে এমন প্রাণ নেই যা আপনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে

"একজন মানুষ হিসেবে সংস্কারমুক্ত মন নিয়ে আমি সিদ্ধান্তে এসেছি, পৃথিবীতে এমন প্রাণ নেই যা আপনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে " বিবর্তনবাদ তত্ত্ব সৃষ্টি করেই নিজের কর্তব্যকে সমাপ্ত করেননি ডারউইন, সমাজের মানুষের কাছে এই মতবাদের বশবর্তী হয়ে সত্যকে অস্বীকার করা যায় না

আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন | এবং তার মহত্ব

জর্জ ওয়াশিংটন আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি রাস্ট্রপতি পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে প্রথমিই তিনি দেশ সমস্ত জাতিকে শান্তিপূর্নভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান যখন ফরাসি বিপ্লব শুরু হল, তিনি বিপ্লবীদের সমর্থন করলেও নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহন করলেন এর ফলে আমেরিকা প্রতিটি বিবাদমন দেশেই বাণিজ্য করার সুযোগ পেল
দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে অসাধারণ যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য তাঁকে দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হল দ্বিতীয় বারে নির্বাচন কাল শেষ হল তাঁকে সকলেই অনুরোধ জানালো তৃতীয় বারের জন্য নির্বাচিত হতে তিনি সবিনয়ে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন, "ইশ্বরকে ধন্যবাদ আমি কর্মক্ষম স্বাস্থবান রয়েছি..শুধুমাত্র সে কারণেই আমি পদ চাই-না শুধু অযৌক্তিক নয়, অপরধ কবে যদি আমি পদ আঁকড়ে থাকি হয়ত অপর কেউ আমার চেয়েও আরোভালভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে "
তিনি ইংল্যান্ডের ক্রমওয়েলের মত এক নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, কিন্তু ক্রমওয়েলের মতই তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না তাঁর যে মহান দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল তিনি সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন তার পর সে দায়িত্ব অন্যের উপর তুলে দিয়ে নিঃশব্দে বিদায় নিয়েছিলেন

 

Previous Post
Next Post
Related Posts