নির্বাচিত সংবাদ!

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

ইসলাম ও কোরআনের উৎকর্ষ:বিজ্ঞান,সাহিত্য আর কিছু বিক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ইসলাম ও কোরআনের উৎকর্ষ:বিজ্ঞান,সাহিত্য আর কিছু বিক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ধর্ম এবং বিজ্ঞানের বৈরীতা বেশ পুরোনো। এই বৈরীতা চরমে ছিল ইউরোপ যখন খ্রিস্টধর্ম দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতো।
বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কার ধর্ম দ্বারা স্বতঃসিদ্ধ না হলে তারা ওই বিজ্ঞানীকে মৃত্যদন্ড দিতে ও কার্পন্য বোধ করেনি। সেই রেশ ধরে বিজ্ঞান ধর্মকে তাদের প্রতিকূল প্রতিপক্ষ ভাবে।
কিন্তু এ স্বতঃসিদ্ধ ধারণা আমূল পরিবর্তনকারী ধর্ম হলো ইসলাম। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো আমি ইসলামকে বিজ্ঞানের চোখে দেখব নাকি বিজ্ঞানকে ইসলামের চোখে দেখব। আমি দ্বিতীয়পক্ষের পক্ষপাতী। কারণ, আমি মুসলিম; যে সবকিছু কোরআন (সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী ) দ্বারা যাচাই করে। বিজ্ঞানের সমস্ত কোরআন বর্ণিত বিষয়াদির সিদ্ধতা সেই বিশ্বাসকে বাড়ানোর নিয়ামক নিষ্ঠাবান মুসলিম ভাবে না। তার বিশ্বাস কোরআন দ্বারা পরিপোক্ত। আমি বিজ্ঞানকে আপেক্ষিকভাবে অগ্রসরমান উপাত্তদ্বারা সময়সাপেক্ষ শিক্ষা ভাবি। তা দ্বারা ইসলাম পরিমাপ করতে চাওয়া সসীম দ্বারা অসীমকে সংজ্ঞায়িত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করা। অসীম সসীমকে ধারণ করতে পারে কিন্তু সসীম অসীমের উপাদান মাত্র। আমার কথা অনেকের কাছে বিজ্ঞানবিদ্বেষী; অনেকের কাছে ধর্মান্ধ মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু আমরা এত আত্মবিশ্বাসী নিয়ে বলি, কারণ আমরা জানি; কোরআনের অবতীর্ণকারী সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানুহ্ তাআলা।

আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করি বলেই আমাদের মন বিজ্ঞানসিদ্ধতা চায়। কিন্তু আমরা কি এও জানি মক্কার আরবরা বিজ্ঞানের চেয়ে সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন। পৃথিবীতে সেই সময়ে ভাষা এবং সাহিত্যের উৎকর্ষে আরবরাই ছিলো কোরআনকেই চ্যালেন্জ জানানোর মত সবচেয়ে সমৃদ্ধ। তখনকার আরবের অন্যতম কবি তোফায়ল্ ইবন্ আমর দূসী , যখন মোহাম্মদ (সাঃ) এর সালাতে কোরআন তিলাওয়াত শোনলেন; তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইসলামের শত্রুরা কোরআন তিলাওয়াত শোনে কেঁদেছেন; উতবা ইবন্ রবীআ তার অন্যতম উদাহরণ।
কোরআন শোনার জন্য লুকোচুরিভাবে নবীজীর ঘরে কান পাঁততো তারা। কোরআনের ভাষা এবং সাহিত্যগত সমৃ্দ্ধি আমরা ভুলতে বসেছি। আল্লাহ সুবহানহ্ তাআলা কোরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার ন্যায় সূরা তৈরীর যে চ্যালেন্জ জানিয়েছেন, তা আজ অব্দি অক্ষত এবং কিয়ামতের আগ পর্যন্ত থাকবে। কোরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা তিন আয়াতের সূরা আল-কাউছার। এর প্রথম আয়াত "ইন্না আত'ইনা কাল্ কাউছার"। এর বর্ণনারীতি, ব্যকরণ,দ্যুতি, শব্দচয়ণ এবং তাৎপর্যের সুগভীরতা, আরবী ভাষাকে নতুনতর পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এর ভাষাশৈলী সকল আরবী ভাষবিদদের জন্য নতুনতর উচ্চতা; যা অস্পৃশ্য। এটাই কোরআনের বর্ণনারীতি; অবিস্মরণীয় এবং অদ্বিতীয়। এই অলৌকিকতা বোঝার জন্য আরবী ভাষার সুগভীর জ্ঞান থাকা চাই।
এবার ফিরে আসি, বিজ্ঞানের প্রসঙ্গে। কোরআনে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহ বিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত।যেমন:
  1. পানিচক্র, (কোরআন:সূরা ৩৯: আয়াত ২১)
  2. ভ্রুণতত্ত্ব,(কোরআন:সূরা ২৩: আয়াত ১২-১৪)
  3. মানুষের ত্বকের স্নায়বিক কোষের ধারণা,(কোরআন:সূরা ৪:আয়াত ৫৬)
  4. লৌহ্- Iron(Fe)এর ধারণা, (কোরআন:সূরা ৫৭ : আয়াত ২৫)
  5. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ,(কোরআন:সূরা ৫১: আয়াত ৪৭)
  6. সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবীর আপন কক্ষপথে ঘোরার বর্ণনা,(কোরআন:সূরা ২১ : আয়াত ৩৩ , কোরআন:সূরা ১৪ : আয়াত ৩৩, কোরআন:সূরা ৩১ : আয়াত ২৯, কোরআন:সূরা ৩৬ : আয়াত ৪০,কোরআন:সূরা ১৩: আয়াত ২)
  7. সূর্যের আপন আলো এবং চাঁদের প্রতিফলিত আলোর ধারণা,(কোরআন:সূরা ১০ : আয়াত ৫)
  8. পৃথিবীর ডিম্বাকৃতির (অস্ট্রিচ পাখি) ধারণা,(কোরআন:সূরা ৭৯ : আয়াত ৩০)
  9. পাহাড়-পর্বতকে পৃথিবীর স্হিতিশীলতাকারী পেরেকস্বরূপ হিসেবে বর্ণনা,(কোরআন:সূরা ৭৮: আয়াত ৬-৭ এবং কোরআন:সূরা ১৬: আয়াত ১৫)
  10. মৌমাছির স্ত্রী প্রজাতির বর্ণনা,(কোরআন:সূরা নাহল্)
  11. পরমানু অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর বস্তুর ধারণা,(কোরআন:সূরা ৩৪ : আয়াত ৩)
  12. মানুষের অঙ্গুলি ছাপের ঐকিকতার ধারণা,(কোরআন:সূরা ৭৫ : আয়াত ৩-৪ )
  13. মস্তিষ্কের সন্মূখভাগের প্রবৃত্তিগত বর্ণনা, (কোরআন:সূরা ৯৮: আয়াত ১৫-১৬)
  14. মেঘ, বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ধারণা, (কোরআন:সূরা ২৪: আয়াত ৪৩)
  15. সুগভীর সমুদ্রের নিগূঢ অন্ধকারাচ্ছন্নতার বর্ণনা (বস্তুতঃ ১০০০ মিটার অধিক গভীর) (কোরআন:সূরা ২৪: আয়াত ৪০)
  16. সমুদ্রের মিলনস্থলের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য: যেমন-লবণাক্ততা, ঘনত্ব, উষ্ণতা ইত্যাদি (কোরআন:সূরা ৫৫: আয়াত ১৯-২০ এবং কোরআন:সূরা ২৫: আয়াত ৫৩) ইত্যাদি।
বৈজ্ঞানিক এ সকল প্রমাণ কোরআনের বর্ণনাকে সমর্থন করে; যা ১৪০০ বছর আগে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল প্রমাণে বিমুগ্ধ হয়ে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছে।
কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা বলেন; সৃষ্টিকর্তা যদি সবার ভাল চান এবং তিনি সব ভালোর পক্ষে তবে পৃথিবীতে খারাপ আসে কিভাবে? কিংবা ভালো লোক কষ্ট পায় কেন? ইত্যাদি। এইভাবে খারাপের উপস্হিতি তাদেরকে সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী হতে শিখায়।
এদের অনেকে খুব কাছের কাউকে হারিয়ে কিংবা পারিবারিক পরিমন্ডলে চরম অশান্তিতে বেড়ে উঠে এমন ধারণা পোষন করেন। আমরা সবকিছুর ব্যাখ্যা আমাদের সীমিত জ্ঞান দ্বারা খুঁজি; কিন্তু আমার ঠিক পিছনে কি হচ্ছে তার ধারণাও করতে পারিনা আমরা। আমাদের চিন্তার মাত্রা খুবই সীমাবদ্ধ। এই উপলদ্ধি না থাকলে চিন্তা আমাদের জন্য বুমেরাং।
এইবার আমার প্রশ্ন, আমরা আলো দেখি এবং অন্ধকার আমাদের অজানা নয় কিন্তু যদি বলা হয় অন্ধকারকে কোন পাত্রে ধারণ করার জন্য তবে তা সম্ভবপর নয়। কারণ অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্হিতি মাত্র।
অনুরুপভাবে, আমরা যখন বলি অমুকের মস্তিষ্ক প্রখর। এই মস্তিষ্ক যেমন আপনি দেখেননি, তেমনি তার প্রখর মস্তিষ্ককে অস্বীকার ও করছেন না। এটা ধারণা তবে সত্য ধারণা।
যারা যুক্তিবাদী, তাদের জন্য বলি। আমরা মূলতঃ দুই ধরনের চিন্তা করি। যেমন: Rationale এবং Ir-rationale।
তবে, কিছু ধারণা আছে Super-rationale.
এখন আপনি যেমন Ratioanle দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা করছেন, তেমনিভাবে এই বিশ্বাসকে Ir-rationale প্রমাণ করা কখনো সম্ভব নয়। তবে সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে বিচার করতে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার সাথে সুমধুর এবং অঠুট সম্পর্ক হারিয়ে ইহকাল এবং পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনি।
ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন: "যাদের বিজ্ঞানের জ্ঞান বেশী তারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে, আর যাদের জ্ঞান সীমিত তারা বিশ্বাস করে না"।
আবার, অনেকে বলে আমরা পৃথিবীতে আছি, এইটা Self-existence। আমি তাদেরকে বলি, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া বন্ধ করুন। এটা কোনভাবেই, যৌক্তিক নয়।
Big-bang এর theory প্রয়োগ করে ও অনেকে তাদের নাভিশ্বাস জীবনে মুক্তি খোঁজে। এবার আপনি Mercedes Benz এর সমস্ত যন্ত্রাংশ নিয়ে একটি বিস্ফোরণ ঘটান। আপনি কি Brand New Mercedes Benz পাবেন?
শুধু অভিকর্ষজ ত্বরণের কথা চিন্তা করুন!!!
সবকিছু এতো সুবিন্যস্ত, সুসজ্জিত, সুবন্টিত কেন? কে এর পরিচালনাকারী?
আপনার নিজের গাঠনিক সৌন্দর্যকে প্রশ্ন করুন।
কোরআনের সূরা বাকারার ১ম অংশে, সূরা আর-রহমান, সূরা ওয়াকিয়া'য় সহ অসংখ্য সূরায় মানুষের স্বভাবজাত Intellect and Understanding কে প্রশ্ন করা হয়েছে, Challenge দেয়া হয়েছে এবং সতর্কবাণী ও দেয়া হয়েছে।
আমি সকলকে আমন্ত্রণ জানাই নিষ্ঠা এবং যথার্থ উন্মুক্ত মনে কোরআন পড়ুন।
সৃষ্টিকর্তার বিশালত্ব অনভব করুন। অসীমে হারানোতে সসীমের মুক্তি।
সসীম দ্বারা অসীম খোঁজা সীমালঙ্গনকারী।
আসুন, মানব সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণভাবে জেনে তা পালন করি।
"সাহিত্য কিংবা বিজ্ঞান, আল-কোরআন চিরন্তন।"