সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

বিখ্যাত উপন্যাস, গল্প , প্রবন্ধ, কবিতার মূল কথা


>চিলেকোঠার সিপাই-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথ্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস চিলেকোঠারসেপাই। কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান। জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের সমস্ত মানুষকে ৗপন্যাসিক এ উপন্যাসে উপস্থাপন কর েসক্ষম হয়েছেন। ওসমানের পিতার মৃত্যুর স্বপ্নদৃশ্য দিয়ে উপন্যাস আরম্ভ। এই ওসমান দেশ বিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় এসছে। সে এতোটাই বিচ্ছিন্ন এবং ছিন্নমুল যে চিলেকোঠায় বাস করা তার জন্য যথাযথ হয়েছে। অথচ বামপন্থী ছাত্রনেতা, ছাত্রলীগ নেতা, শ্রমিক ও রিক্সাওয়ালা এমন কি বাড়িওয়ালার কন্যার সঙ্গে বিভিন্নভাবে তার যোগাযোগ হচ্ছে। ওসমান যেন ছোট ছোট কাহিনির সূত্রধর। আখতারুজ্ঝামান ইলিয়াস মহাকাবির মতো ছোট ছোট কাহিনি পর্বকে সুন্দর সম্মিলনের মাধ্যমে একটি মহাকাব্যিক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যাবহিত পূর্বরুপটি ওঠে এসেছে।
>খোয়াবনামা- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
গ্রাম বাংলার নিম্ববিত্ত শ্রমজীবি মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভুমি কম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আনোদলন ও সম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।
>অন্য ঘরে অন্য স্ব- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সালে রচিত নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব প্রতিশোধ, যোগাযোগ, ফেরারী, অন্য ঘরে অন্য স্বর ইত্যাদি গল্প নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের এই গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে । ব্যক্তিমানুষই এই গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। তাছাড়া প্রথম বারের মতো পুরানো ঢাকার জনজীবন গল্পগুলোতে বিশষত্ব পেয়েছে যা বাংলাদেশের বাংলাকথাসাহিত্যে যুক্তি করেছে এক নতুন স্বাদ।
>এখনও ক্রীতদাস –আবদুল্লাহ আল মামুন
আবদুল্লাহ আলমামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতবৃত্ত। পুরুষতান্ত্রিক, পুজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।
>কোকিলারা-আবদুল্লাহ আল মামুন
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চতরত্র বিশিষ্ট নাটক । গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে। তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়। ফেরদৌসী মজুমদার করেন েএই একক অভিনয়। নাটকে তার নাম কোকিলা। কোকিলারা উৎসর্গিত হয়েছে ফেরসৌসী মুজমদারকে। এ নাটকে তিনটি পর্যায়: প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা,, তৃতীয় কোকিলা। প্রথম কোকিলা সরল বালিকা, প্রেমের প্রতারণায় গর্ভে সন্তান আসে, চোর সাব্যস্ত হয়, শেষে আত্নহত্যা করে। দ্বিতীয় কোকিলা মধ্যবিত্তের সংসারে তিলেতিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া স্বামীর ভোগ্যপন্য, নিরীহ প্রাণী। তৃতীয় কোকিলা প্রতিবাদী, সমাজের অন্যায় ও অমানবিকতার বিপক্ষে সে সর্বদা সোচ্ছার। বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রুপ তিন কোকিলা। লেখক আশা করেছেন তার তৃতীয় কোকিলা বর্বরতা, কুসংস্কার ও অধর্মের লৌহ কপাটে আঘাত করেই যাবে। দেশ-বিদেশ মিলে নাটকটি শতবারেরও বেশি মঞ্চস্থ হয়েছে।
>সূর্যদীঘল বাড়ী-আবু ইসহাক
১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত। বাংলাদেশের প্রামজীবনের বিশ্বস্ত দলিলিএই গ্রন্থ। বিশেষত গ্রামীন মুসলমান জীবনের বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক পরিচয় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল। প্রকাশের অব্যবহিত পর থেকে বাস্তব চিত্রণ, চরিত্রায়নের স্বাভাবিকতা ও প্রকাশ ভঙ্গির উজুতার জন্য উপন্যাসটি সমালোচক ও পাঠকসমাজে নন্দিত হয়েছে।জয়গুনদের বাড়টিতে রাতে কথিত ভূতের ঢিল পড়ে, সে বাড়িতে নির্ভয়ে থাকা যায় না। তাই । ‍সূর্যদীঘল বাড়ি অমঙ্গলের প্রতীকে  পরিনত হয়। উপন্যাসে গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, কুসংস্কার, মোড়ল ও মোল্লাদের দৌরাত্ন্য, হৃদয়হীনা শাশুড়ির বৌয়ের প্রতি অত্যাচার ইত্যাদি এমন বিশ্বস্ত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে কারণে একটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের যথার্থ উপস্থাপনা। উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: জয়গুন, তার ছেলে হাসু, মেয়ে মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু প্রধান।